দেশের প্রধান উপদেষ্টার কক্সবাজার সফর, তাও আবার রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সংলাপে অংশ নিতে, নিঃসন্দেহে এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ২৫শে আগস্টের এই “স্টেকহোল্ডারস’ ডায়ালগ” শুধু একটি সভার চেয়েও বেশি কিছু। এটি আমাদের সবার মনোযোগ আকর্ষণ করছে, কারণ এটি এমন এক মানবিক বিপর্যয় নিয়ে আলোচনা করবে যা দীর্ঘকাল ধরে আমাদের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে। কক্সবাজার, যেখানে এই সমস্যা সরাসরি প্রভাব ফেলেছে, সেখানে এমন একটি আলোচনা সভার আয়োজন গভীর তাৎপর্য বহন করে।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী, যারা তাদের মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, তাদের ভবিষ্যৎ আজও অনিশ্চিত। এই বিশাল সংখ্যক মানুষের আশ্রয় এবং তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু মানবিক সহায়তা নয়, তাদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের পথ খুঁজে বের করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা বারবার করা হলেও, একটি স্থায়ী সমাধান এখনও অধরা।
এই প্রেক্ষাপটে, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত এই সংলাপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিশেষজ্ঞ থেকে ভুক্তভোগী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি – সকলের মতামত একত্রিত করা একটি কার্যকর সমাধান পৌঁছানোর প্রথম ধাপ। এই সভার লক্ষ্য হলো সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশ তৈরি করা, যা আগামী সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য উচ্চ-পর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হবে।
কক্সবাজারের মাটি থেকে উঠে আসা এই সুপারিশগুলো তাই বৈশ্বিক ফোরামে আরও বেশি বিশ্বাসযোগ্যতা ও শক্তি যোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য সমাধানের দিকগুলো বিশদভাবে আলোচনা করার সুযোগ থাকবে। এটি কেবল একটি বৈঠকের দলিল নয়, বরং বাস্তবের মুখোমুখি হয়ে অর্জিত প্রজ্ঞা এবং অভিজ্ঞতার ফসল হিসেবে বিবেচিত হবে। আশা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই সমস্যার গভীরতা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাবে এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত হবে।
সর্বোপরি, এই সংলাপটি রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও মানবিক সমাধানের দিকে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার প্রয়াস। এটি শুধু বাংলাদেশ নয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যও অত্যন্ত জরুরি। আশা করা যায়, প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে এই আলোচনা থেকে প্রাপ্ত ফলপ্রসূ সুপারিশগুলো নিউইয়র্কের মঞ্চে একটি শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করবে এবং অবহেলিত এই জনগোষ্ঠীর জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথ উন্মোচন করবে। এই মানবিক সংকটের সমাধানে সম্মিলিত ও আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা অপরিহার্য।
উৎস: https://en.ittefaq.com.bd/13137/ca-to-visit-cox%E2%80%99s-bazar-aug-25-to-attend-dialogue