দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর আবারও আশার আলো দেখাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচন কেবল ঢাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; জানা গেছে একই মাসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাকসু) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাকসু) নির্বাচনও হতে পারে। এই খবর বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি এবং সামগ্রিক গণতন্ত্রের জন্য এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটাচ্ছে, যা এক প্রজন্ম ধরে অনুপস্থিত ছিল।
আমাদের জাতীয় ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলালে দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও প্রগতিশীল সংগ্রামে ছাত্র সমাজের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। ডাকসুসহ বিভিন্ন ছাত্র সংসদগুলো একসময় ছিল নেতৃত্ব তৈরির আঁতুড়ঘর, যেখানে ভবিষ্যৎ রাজনীতিবিদ ও দেশপ্রেমিক নাগরিকেরা গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুশীলন করতেন। এই প্ল্যাটফর্মগুলো কেবল ছাত্রদের অধিকার রক্ষাই করেনি, বরং জাতীয় নীতি নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
দীর্ঘ বিরতির পর এই নির্বাচনগুলোর আয়োজনকে দেশের গণতন্ত্র পুনর্গঠনের একটি মৌলিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলো যদি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়, তবে তা দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক অঙ্গনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। শিক্ষার্থীরা ভোট প্রদান, প্রচারণা এবং নেতৃত্ব প্রদানের মধ্য দিয়ে নিজেদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শাণিত করার সুযোগ পাবে। এটি ভবিষ্যতের জন্য এক শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করবে।
তবে এই প্রত্যাশিত পথে চ্যালেঞ্জও কম নয়। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক এবং সহিংসতামুক্ত রাখা একটি বড় পরীক্ষা। বহিরাগত হস্তক্ষেপ এবং রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে শিক্ষার্থীদের স্বাধীনভাবে তাদের নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। যদি এই নির্বাচনগুলো সফলভাবে পরিচালিত হয়, তবে তা শুধু ছাত্র রাজনীতিকেই সজীব করবে না, বরং দেশের সাধারণ মানুষকেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা ফিরে পেতে উৎসাহিত করবে।
মোটকথা, ডাকসু, জাকসু ও রাকসু নির্বাচন নিছকই কিছু ক্যাম্পাসের নির্বাচন নয়; এটি আমাদের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সোপান। এই নির্বাচনগুলোর মধ্য দিয়ে দেশের যুবসমাজ গণতন্ত্রের মূল মন্ত্রগুলো শিখবে এবং আগামী দিনে একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে—এই প্রত্যাশাই আজ দেশবাসীর।