বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বর্তমান সময়টি চ্যালেঞ্জের। প্রগতির এই যুগে তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি এবং উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষমতা দেশের অর্থনীতিতে রক্তের মতো। কিন্তু তাদের সামনে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে অর্থায়ন। সঠিক অর্থের অভাব তাঁদের সৃজনশীল প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে করোনার প্রভাবে অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে অনেকেই উদ্যোক্তা হতে সাহস পাচ্ছেন না।
তবে বিভিন্ন সরকারী এবং বেসরকারী প্রতিষ্ঠানও উদ্যোগ নিচ্ছে তরুণদের সহায়তা করার জন্য। বিনিয়োগের পথ মসৃণ করতে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণরা নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে পারছে। তবে এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে গেলে খরচের চাপে থাকা মফঃস্বল উদ্যোক্তাদের জন্য আরো নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
এছাড়া, প্রস্তুতির উপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। অনেক সময় তরুণ উদ্যোক্তারা উদ্যোগ নিতে চান কিন্তু অভিজ্ঞতা এবং প্রশিক্ষণের অভাবে পিছিয়ে পড়েন। তাই, সঠিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। উদ্যোক্তা হবেন যারা, তাদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান করে নতুন প্রযুক্তি ও ব্যবসায়ীক কৌশলের ধারণা দেওয়া উচিত।
এমন একটি সময়ে, যখন বিদেশের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে, তখন তরুণ উদ্যোক্তাদের সচেতনভাবে নিজেদের উন্নত করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানের পণ্য উৎপাদনের দিকে মনোনিবেশ করা এবং এক্ষেত্রে সামাজিক মিডিয়া ও ডিজিটাল মার্কেটিং এর সদ্ব্যবহার করতে হবে। তবে এজন্য প্রয়োজন উপযুক্ত গবেষণা এবং পরিকল্পনা।
সবশেষে, তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ খুবই চ্যালেঞ্জিং হলেও এখানে সুযোগের অভাব নেই। নিজেদের সৃজনশীলতা এবং উদ্যোগ নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। রাষ্ট্রের সহযোগিতার পাশাপাশি, অভিজ্ঞ উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে সহায়তা গ্রহণ করলে তারা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। তাই, তরুণদের উচিত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া এবং নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা।